৪ জুলাই,২০২১(বিবিনিউজ ):ময়মনসিংহে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর পাশাপাশি উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। হঠাৎ করে উপসর্গে মৃত্যুর বিষয়ে জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ৮ দিনে করোনায় ২৬ জন এবং অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে আরও ৪৬ জনসহ মোট ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গড়ে এখানে প্রতিদিন ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার ১১ জনের, গত শুক্রবার ৯ জনের, বৃহস্পতিবার ১৪ জনের এবং বুধবার ৮ জনের, মঙ্গলবার ৮ জনের, সোমবার ৪ জনের, রোববার ৮ জনের ও ২৬ জুন ১০ জনের মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তি বলে জানা গেছে।
তবে মারা যাওয়া ৭২ জনের অধিকাংশই ময়মনসিংহ ও পার্শ্ববর্তী অন্যান্য জেলার বাসিন্দা। করোনা আক্রান্তে মৃত ২৬ জনের মধ্যে ১০ জন ময়মনসিংহের বাসিন্দা। বাকি ১৬ জন জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, সুনামগঞ্জ, গাজীপুর জেলার বাসিন্দা। উপসর্গে ৪৬ জন মৃত ব্যক্তির মধ্যে অধিকাংশ ময়মনসিংহ জেলার বাসিন্দা।
হঠাৎ করে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে কেন জানতে চাইলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ফোকাল পারসন মহিউদ্দীন খান জানান, এই সময়ে হাসপাতালে যাঁরা ভর্তি হচ্ছেন তাঁদের প্রায় সবাই গুরুতর অবস্থায় এসে ভর্তি হচ্ছেন। এতে চিকিৎসাসেবা দিতে দিতে তাঁরা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। অনেক ক্ষেত্রে নমুনা সংগ্রহের এক–দুই ঘণ্টা পরই তাঁরা মারা যাচ্ছেন। মৃদু বা মাঝারি উপসর্গের তুলনায় ‘ক্রিটিক্যাল’ বা ‘সিভিয়ার কেইস’ সম্পন্ন রোগীরাই বেশি ভর্তি হচ্ছেন।
বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেলের করোনা ইউনিটে প্রতিনিয়ত রোগীর চাপ বাড়ছে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রতিনিয়ত সে চাপ সামাল দিতে হচ্ছে। অতীতে ২১০ শয্যা থাকলেও করোনা ইউনিটে শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে ২৭০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। তবে এখানে ২২ জন রোগীকে আইসিইউ শয্যায় ও ২৫০ জনকে সাধারণ শয্যায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক জাকিউল ইসলাম জানান, হাসপাতালে কোভিড এবং নন–কোভিড ইউনিটে দিন-রাত নিরলসভাবে সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসাসেবায় কোনো গাফিলতি নেই। অক্সিজেন সরবরাহেও কোনো সংকট নেই। ২৯টি হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা, ১৩টি ভেন্টিলেটর এবং ১৩টি অক্সিজেন কন্সেন্ট্রেটর রয়েছে।
হঠাৎ করে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও সাবধান থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন বিএমএ ময়মনসিংহ শাখার সভাপতি মতিউর রহমান। তিনি বলেন, সবাইকে সচেতন থেকে করোনা প্রতিরোধ করার কোনো বিকল্প নেই। কারও কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নমুনা পরীক্ষা করার আহ্বান জানান তিনি।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসাবে গত ৮ দিনে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১০১ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৫৩৮ জন। নমুনা পরীক্ষা করিয়েছেন ৪ হাজার ৬৬৯ জন। রোববার সকাল পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৪৩৮ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৭ হাজার ১৯৩ জন। জেলায় এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৮২ হাজার ১২ জনের। বর্তমানে ১ হাজার ১৫৭ জন আইসোলেশনে রয়েছেন।
করোনা ও উপসর্গে মৃত্যুর বিষয়ে সিভিল সার্জন নজরুল ইসলাম বলেন, অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের গাফিলতি এবং বিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। যাঁরা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন তাঁদের আইসোলেশনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং ও মুঠোফোনে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া নমুনা সংগ্রহের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে এবং প্রতি উপজেলায় টেলিমেডিসিন সেবাও চালু রাখা হয়েছে।
